এপ্রিল-জুন প্রান্তিক

ইন্দোনেশিয়ার প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৫.৩ শতাংশে

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হয়েছে।

বিশ্ববাজারের নানা অস্থিরতা ও উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটা কমে যাওয়ার কারণে এ ধীরগতি দেখা গেছে। গত বুধবারে প্রকাশিত দেশটির সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম এ অর্থনীতির মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির এ হার বাজার পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি হলেও সরকারের নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। খবর নিক্কেই এশিয়া।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। সে সময় নতুন বছর, রমজান ও ঈদুল ফিতরের কারণে ভোক্তা পর্যায়ে কেনাকাটা ও ব্যয় বেশি ছিল। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১০ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন। ফলে অর্জিত ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সেই পূর্বাভাসকে অতিক্রম করলেও ইন্দোনেশিয়া সরকারের নির্ধারিত ৫ দশমিক ৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়ে গেছে।

ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতির অর্ধেকেরও বেশি নির্ভর করে গৃহস্থালি ব্যবহার বা ভোগ ব্যয়ের ওপর। এপ্রিল-জুন মেয়াদে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ, যা জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ছিল ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। রেস্তোরাঁয় খাওয়া, অনলাইনে খাবার সরবরাহ এবং যানবাহন বিক্রি এ খাতের বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশে পৌঁছায়। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর বিনামূল্যে শিশুদের খাবার বিতরণ কর্মসূচি এবং গ্রামীণ সমবায় প্রকল্পের জন্য গাড়ি ও সরঞ্জাম কেনার ফলে বিনিয়োগ বেড়েছে।

সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির হার ১৫ দশমিক ৯৭ শতাংশে নেমে এলেও তা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির পরও চলতি বছর শেষে ৫ দশমিক ৬ থেকে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। তবে অর্থনীতিবিদরা এ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন ছাড়া সরকারের কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা অসম্ভব।

আরও